দেশের রাজনীতিতে মহীয়সী এক নারী। রাজনীতিতে নীতির প্রশ্নে দৃঢ়তা, গণমানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীনতা, কথাবার্তায় শালীনতাবোধ, মার্জিত আচরণ, অনমনীয়তা এবং বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আত্মত্যাগের সংমিশ্রণে শক্তিশালী রাজনৈতিক চরিত্রের অধিকারী নেত্রী তিনি। তিনি হাসলে কোটি কোটি মানুষ হাসে; তার দুঃখে দেশবাসী কাঁদে। এই নেত্রী হচ্ছেন গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ । ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
দেশের রাজনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর কোনো দেশে তিনিই দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশপন্থী’ এই মহীয়সী নেত্রী দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত স্রোতে গা ভাসাননি। শেখ হাসিনাসহ দেশের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা যখন ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, মার্কিনপন্থী, চীন-মস্কোপন্থী হিসেবে নিজেদের জাহির করতে অভ্যস্ত হন; তখন তিনি বাংলাদেশপন্থী নেত্রী হিসেবে সুপরিচিতি পান। তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা যখন দিল্লির সেবাদাসী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন; তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই; এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু’। এ জন্যই বিএনপির নেতৃত্ব দিলেও তিনি দেশে দল-মত নির্বিশেষে সর্বমহলে সমাদৃত। দেশের শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যতবার, যতগুলো আসনে প্রার্থী হয়েছেন, প্রত্যেকবার ততগুলো আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ রেকর্ড দেশের আর কারো নেই।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আওয়ামী লীগের মাফিয়াতন্ত্রের রেজিমে কাউকেই ১৫ আগস্ট জন্মদিবস পালন করতে দেয়া হতো না। ১৯৭৫ সালের এই তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করায় আওয়ামী লীগ ‘শোক দিবস’ পালন করতো। দেশবাসীর উপর ‘জাতীয় শোক দিবস’ চাপিয়ে দিয়ে নাগরিকদের জন্মদিবস পালনে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এমনকি বাকশালের জনক শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের দিনে যাতে কেউ জন্ম নিতে না পারে সে জন্য দেশের হাসাপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ১৫ আগস্ট সন্তান সম্ভাব্য কোনো সিজার করতে দেয়া হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে যেসব নারীর ১৫ আগস্ট সন্তান জন্ম নেয়ার দিনক্ষণ;ওই দিন যাতে কেউ জন্ম না নেয় সে জন্যই আগের-পরের দিন প্রসূতির সিজারের ব্যবস্থা করা হতো। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে প্রচার করা হতো বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেননি। অথচ বেগম জিয়ার মা তৈয়বা মজুমদার, বড় বোন খুরশিদ জাহান হক (চকলেট আপা) ১৫ আগস্ট জন্মের কথাই জানান।
গৃহবধূ থেকে সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতিতে এসেছেন বেগম খালেদা জিয়া। অথচ রাজনীতির তার চলার পথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। রাজনীতির বাঁকে বাঁকে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি এগিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জাতীয়ভাবে পরিচিত হন। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের (হত্যা) পর বিএনপির সদস্য হন। ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনা কখনো রাজপথে আন্দোলন, কখনো স্বৈরশাসক এরশাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিলেও বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করায় তাকে ‘আপোষহীন’ নেত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়।
দেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে জুলুম-নির্যাতন সহ্যের পাশাপাশি এক ছেলেকে হারিয়েছেন, আরেক ছেলে নির্বাসিত, নিজেও কারাবন্দি ছিলেন। কিন্তু তারপরও মাথা নত করেননি গণতন্ত্রবিরোধী, ফ্যাসিবাদীদের কাছে। রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিতে তিনি বড় ছেলেকে দেশের রাজনীতিতে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক প্রায় দেড় যুগ ধরে লন্ডনে থাকলেও বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ তার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থাশীল।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া এবং চিকিৎসার পর দেশে ফিরে আসার রাজসিক প্রত্যাবর্তনই জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। দেশ স্বাধীনের পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে যে রাজসিক সংবর্ধনা পেয়েছিলেন; লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার পর খালেদা জিয়াকে দেশে ফেরার দিন তেমনই রাজসিক মর্যাদা দেয়া হয়। ইতিহাসে আর কোনো নেতা-নেত্রীকে এভাবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বাগত জানানোর নজীর নেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের আপোষহীন উপাধি এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থাকা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে আমজনতা স্বাগত জানানোর চিত্রে পরিষ্কার বেগম জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন; তিনি ১৮ কোটি মানুষের নেত্রী, দেশের সম্পদ। গণতন্ত্র, দেশ ও দেশের জনগণের অধিকার আদায়ে আপোষহীন ভূমিকায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করায় তিনি নিজেকে দলীয় গন্ডির বাইরে নিয়ে গেছেন। বেগম জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, সারা দেশের মানুষের নয়নমনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যেমন সরকারে ছিলেন তেমনি বিরোধী দলে থেকে জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছেন। মানুষের অধিকার আদায়ে তার জুলুম,নির্যাতন সহ্য বৃথা যায়নি।বেগম খালেদা জিয়া এখন আর কেবল বিএনপির সম্পদ নয়,তিনি এখন হয়ে উঠেছেন সারা বাংলাদেশের মানুষের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশকে ভারতের কলোনী বানাতে লেন্দুপ দর্জির মতোই দিল্লি শেখ হাসিনাকে ১৫ বছর ক্ষমতায় রেখে জুলুম-নির্যাতন করেছে।গুম-খুন-জুলুম নির্যাতন,হামলা-মামলা দিয়ে মানুষকে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়। দেশ পরিচালনার নামে হাসিনা গোটা দেশে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। আইন-শৃংখলা বাহিনী থেকে শুরু করে সেনা-নৌ-বিমান বাহিনী, বিজিবি এমনকি সিভিল প্রশাসনের সচিব থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সকলকে দলদাসে পরিণত করেন। এসবের প্রতিবাদ করে দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্ব ধরে রাখেন। তার দৃঢ়তায় জাতীয়তাবাদী, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলগুলো এমনকি বাম ধারার দলগুলো বিএনপির সঙ্গে কেউ জোটভুক্ত হয়ে কেউ সমান্তরাল কর্মসূচিতে আন্দোলন করে। তিনি অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে বিএনপির নেতৃত্ব দেয়ায় শুধু বিএনপির নেতারাই নয়, অন্যান্য দলগুলোর নেতারাও মন্ত্রী-এমপি এবং স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছেন। অথচ তিনি নমনীয় হলে হিন্দুত্ববাদী চাণক্যনীতির ভারত নানা ছলছুঁতোয় বাংলাদেশের দিল্লির সেবাদাসী হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতো। এতে আওয়ামী লীগ ও হাসিনার দাসদাসী ও সেবাদাসরা মন্ত্রী-এমপি হলেও প্রকৃত দেশপ্রেমী রাজনীতিকদের সাইড লাইনে বসে থাকতে হতো।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে হাসিনা পালানোর পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পশ্চিমা টাকায় পরিচালিত কিছু এনজিওকর্মী এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নেয়া কিছু ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় সংস্কারের অজুহাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নানা ফন্দিফিকির করেন। বেগম খালেদা জিয়ার দূরদৃষ্টি নেতৃত্বের কারণে নির্বাচনের আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে। কারণ খালেদা জিয়ার রাজনীতির নিজস্ব একটি ধারা আছে। রাজনীতিতে শালীনতাবোধ, ও আত্মত্যাগের সংমিশ্রণ।
খালেদা জিয়া ৩৬ বছর বয়সে দুই কিশোর সন্তানকে ঘরে রেখে রাজনীতির মাঠে নামেন। বিএনপির নেত্রী হিসেবে রাজনীতি এবং তিনবার প্রধান মন্ত্রী ও দুইবার বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিগত ৪৫ বছর দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর ভারতের নীল নকশা বাস্তবায়নে ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমদের সরকার তথাকথিক ‘মাইন্যাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়ার চাপ দেন। শেখ হাসিনা চিকিৎসার নামে দেশ ছাড়লেও বেগম জিয়া দেশ ছাড়েননি। অতঃপর ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা আপোষ করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন; কিন্তু হাসিনা সে প্রস্তাব মেনে নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যান। স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব, চারিত্র্যিক গাম্ভীর্য, আপসহীনতা আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাইরেও খালেদা জিয়ার নিজস্ব ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। সরকারে থাকুক আর সরকারের বাইরে থাকুক দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে দুই হাতে আগলে রেখেছেন। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের আমজনতা এমনকি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতারাও এখন চাচ্ছেন বেগম জিয়ার মতো আদর্শ নিয়ে বেচে থাকতে।
দিল্লির নাচের পুতুল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রেজিমে সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়েছিল। ক্যাঙ্গারু কোর্টে তার কারাদন্ড দেয়া হয়। নরেন্দ্র মোদী গংদের নীল নকশা বাস্তবায়নে পরিকল্পিতভাবেই খালেদা জিয়াকে জেলে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন হাসিনা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পথে পরিষ্কারভাবেই বাধা সৃষ্টি করা হয়। দীর্ঘদিন জেলে আটকে রাখার পর আংশিক মুক্তি দিলেও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়া বারবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এমনকি বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে তার অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে; তারপরও তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রবাদে রয়েছে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে খালেদা জিয়া মুক্তিলাভ করেন।
’৯০ অভ্যুত্থানের পরর্বতী নির্বাচনের ফলাফলের তালিকা দেখলে কী দেখি? ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ও এইচ এম এরশাদ ৫টি করে আসনে প্রার্থী হন। বেগম জিয়া এবং সে সময়ের কারাবন্দি এইচ এম এরশাদ সবগুলো আসনে বিজয়ী হলেও শেখ হাসিনা ’৯১ সালে ৩টিতে পরাজিত হয়ে ২টি ও ’৯৬ সালে ৪টিতে পরাজিত হয়ে গোপালগঞ্জে একটি আসনে বিজয়ী হন। ২০০১ সালে এরশাদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারলেও বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা প্রার্থী হন। সে সময় বেগম জিয়া ৫ আসনে বিজয়ী হন কিন্তু শেখ হাসিনা ২টি আসনে বিজয়ী ও ৩ আসনে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩ আসনে নির্বাচন করার বিধান করা হয়। খালেদা জিয়া ৩টি, শেখ হাসিনা ৩টি ও এরশাদ ৩টি আসনে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। অতএব বেগম খালেদা জিয়ার বিকল্প খালেদা জিয়াই।
মুহাম্মদ রেজাউল হক
সাংবাদিক কলামিস্ট লেখক
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন