শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও এসব পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। তাঁদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও সরকার তাঁদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই।’
তিনি বলেন, এসব মানুষের মহান ত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা আজও নিখোঁজ, তারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন, তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব আন্দোলনের শহীদ, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। দেশের মানুষের জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে।
শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ত্যাগকে সরকারের কাজের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের পাশে থাকার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁদের সমর্থন ও উৎসাহ নিয়ে শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন