মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে কে এম নাজমুল হক জানান, বাঁধনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তিনি নিরাপদে আছেন। কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাজমুল হক আরও জানান, ভেনিসে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে ইতালির পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহায়তায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ওপর বিদেশের মাটিতে হামলা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাঁধনের পক্ষ থেকেও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন জানান, বুধবার হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বাঁধন। এ প্রক্রিয়ায় ভেনিসে অবস্থানরত জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধিরা তাঁকে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিওবার্তায় বাঁধন অভিযোগ করেন, মেস্ত্রে এলাকার একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয়, তাঁর মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।
বাঁধনের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন। তাঁকে গালাগাল করা ও ঘটনার দৃশ্য ধারণ করারও অভিযোগ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাঁধনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বাঁধন স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনটিভি জানিয়েছে, প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাঁধন বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন তাঁর অভিনীত রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রের কারণে। ছবিটি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ভেনিসে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় এবং উৎসবের বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও ছবিটি অংশ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি বাঁধনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এর আগে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মাধ্যমে কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলোচনায় আসেন তিনি। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মাধ্যমে এবার ভেনিসেও তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। ছবিতে বাঁধনের পাশাপাশি জাইনীন চৌধুরী করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয় করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে এরই মধ্যে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির সারজিস আলমও বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন