চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশীতে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের সুযোগ নিয়ে বাসার ভেতরে থাকা একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় পালিয়ে যান ওই সন্ত্রাসী।
অভিযান চলাকালে হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম ও তার বডিগার্ডসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৩ থেকে ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানের সময় ওয়াকিল হোসেন মোবাইল ফোনে ও ভিডিও কলে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করেন। খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা নিয়মিত মামলায় ওয়াকিল হোসেনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় মোট সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ওয়াকিল হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে। বর্তমানে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ওয়াকিল হোসেনসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই হামলায় ওসির হাতসহ ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে পুলিশের একাধিক দল ওয়্যারলেস এলাকার প্রতিটি গলি ও ওয়াকিলের বাসভবনে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় তার বাসার ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ও পালানোর পথের সন্ধান মেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন